জ্বালানী তৈরি হবে মানুষের মল থেকে!

ডেস্ক রিপোর্টঃগবেষকরা তেল-গ্যাসের পরিবর্তে বিকল্প জ্বালানীর খোঁজে এবার মানব বর্জ্যের দিকে হাত বাড়িয়েছেন । কিছু কিছু দেশে এ ধরনের জ্বালানী বিশেষ উপকারে আসতে পারে।

জার্নাল অব ক্লিনার প্রোডাকশনে প্রকাশিত হয় এই গবেষণা। ইসরায়েলের বেন-গুরিয়ন ইউনিভার্সিটির এই গবেষণায় সাধারণ একটি প্রেশার কুকার ব্যবহার করে মানব মল থেকে তৈরি করা হয় হয় হাইড্রোচার, যা কিনা চারকোল বা কয়লার মতোই একটি জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করা যায়।

গবেষণার লেখক অধ্যাপক অমিত গ্রস জানান, মূলত রোগ ছড়ানোর ঝুঁকি থাকে বলে মানব মলকে এড়িয়ে চলা হয়। এছাড়া এতে বিভিন্ন ওষুধ থেকে আসা দূষক পদার্থও থাকে। তাই সঠিকভাবে ব্যবহার না হলে তা পরিবেশের জন্য খারাপ হতে পারে।

গবেষকরা দুই ঘণ্টার জন্য ২৪০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় উত্তপ্ত করেন মানব মল। এ থেকেই তৈরি হয় হাইড্রোচার। এটা যে শুধু জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার হবে তা নয়। এতে প্রচুর খনিজ থাকায় তা সার হিসেবেও ব্যবহার করা যাবে। উত্তাপ দেওয়ার কারণে তা জীবাণুমুক্ত হয়ে যায়, ফলে তা নিয়ে কাজ করাটা নিরাপদ।

সারা বিশ্বের প্রায় ২.৩ বিলিয়ন মানুষ স্বাস্থ্যসম্মত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা ব্যবহার করে না। এমনকি খোলা আকশের নিচেও মলত্যাগ করে ৮৯২ মিলিয়ন মানুষ। এসব এলাকায় জ্বালানীরও অভাব বেশ প্রকট। অনেক এলাকাতেই কাঠ, চারকোল ব্যবহার করা হয়। কিন্তু এগুলো পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। এর বদলে হাইড্রোচার ব্যবহার করা অনেক উপকারী হতে পারে। গবেষকরা দাবি করেন, ঘর গরম করতে ও রান্না করতে হাইড্রোচার ব্যবহার করা যাবে, আর এর তরল উপজাত ব্যবহার করা যাবে সার হিসেবে।

গত বছর একই প্রতিষ্ঠানে টার্কি ও অন্যান্য মুরগীর মল নিয়ে এ ধরণের গবেষণা করা হয়। দুই ক্ষেত্রেই দেখা যায়, এই জ্বালানীর কোনো বাজে গন্ধ নেই। বরং এর ধোঁয়ার গন্ধটা বেশ সুন্দর।

Leave A Reply

Your email address will not be published.