ফাইভ জির তরঙ্গ পরীক্ষা করতেই মারা গেল শত শত পাখি

সপ্তাহখানেক আগের ঘটনা।হঠাৎ করেই নেদারল্যান্ডসের এক পার্কে গাছের ডালে বসে থাকা পাখিগুলো মরে নিচে পরে যেতে থাকে। একটি বা দুটি নয় এভাবে মারা যায় প্রায় তিনশ’ পাখি।

শুধু পাখি নয়, আশপাশের পুকুরে সাঁতার কাটতে থাকা হাঁসগুলোও দিশেহারা হয়ে পড়ে। এদিক সেদিক ছোটাছুটি করতে থাকে তারা। পানির নিচে ডুব দিয়ে কেন যেন কোথাও পালানোর চেষ্টা করছিল হাঁসগুলো। সংবাদ প্রিন্সিপিয়া সাইন্টিফিক ইন্টারন্যাশনালের।

নেদারল্যান্ডসে সম্প্রতি পঞ্চম প্রজন্মের টেলিকম নেটওয়ার্ক ফাইভ-জি চালু করার প্রক্রিয়া চলছে। একটি রেল স্টেশনে পরীক্ষামূলকভাবে ওই নেটওয়ার্ক চালু করা হয়েছিল। আর এর প্রতিক্রিয়াতেই এমন আজব ঘটনা ঘটতে শুরু হয়।

রেল স্টেশনের আশেপাশের পার্কে অসংখ্য মৃত পাখি পড়ে থাকতে দেখা যায়। শুরুতে এই খবর দেশটির সরকার সুকৌশলে চেপে গিয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই খবর আর চেপে রাখা সম্ভব হয়নি। সব মিলে মৃত পাখির সংখ্যা ছিল ২৯৭ টি।

মূলত ফাইভ জি নেটওয়ার্কের সিগনাল কতদূর পৌঁছায় আর এতে পরিবেশে কোন ক্ষতি হয় কী না তা জানাই ছিল এই পরীক্ষার মূল উদ্দেশ্য। কিন্তু এই পরীক্ষা কারণে পরিবেশের উপর বিশাল ধকল গেল।

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নেদারল্যান্ডসের পরিবেশপ্রেমীরা। তারা বলেছেন, এতো পাখি একসঙ্গে ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাল ইনফেকশনে হঠাৎ মারা যেতে পারে না। ফাইভ জি নেটওয়ার্ক থেকে নির্গত মাইওক্রোওয়েভ পাখির হৃদপিন্ডে আঘাত হানে। এর পরে হৃদযন্ত্র অকেজ হয়ে পাখিগুলো মারা গেছে। আমরা এই পরিবেশ বিরোধী প্রযুক্তি চাই না।

দেশটিতে ইতোমধ্যে ফাইভ জি নেটওয়ার্ক বন্ধ করার জন্য ইন্টারনেটে আন্দোলন শুরু করেছেন পরিবেশবাদীরা। স্টপফাইভজি ডট নেট নামক ওয়েবসাইট থেকে তারা ফাইভ জি নেটওয়ার্ক থেকে হওয়া সম্ভাব্য ক্ষতি হওয়ার ব্যাপারে জনসাধারণ সচেতন করার কাজ করে যাচ্ছেন।

Leave A Reply

Your email address will not be published.