কাশ্মিরে অস্ত্র হাতে নিলেই গুলির নির্দেশ

জঙ্গিদের পাশাপাশি এবার কাশ্মিরের সাধারণ নাগরিকদেরও কঠোর বার্তা দিয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। কাশ্মিরে কেউ অস্ত্র হাতে তুলে নিলেই তাকে গুলি করা হবে এমন নির্দেশ দিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী।

মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মলেনে লেফটেন্যান্ট জেনারেল কে এস ঢিলোঁ এসব কথা বলেন।

কে এস ঢিলোঁ বলেন, আমি প্রত্যেক পরিবারকে বলছি, সন্তানদের বন্দুক পরিত্যাগ করে আত্মসমর্পণের পথে আসতে বলুন। এটাই সঠিক পথ। যদি তা না হয়, অস্ত্র হাতে তুলে নেওয়া যে কাউকে গুলি করা হবে।

 

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি জম্মু-কাশ্মিরের পুলওয়ামা জেলায় জঙ্গি হামলায় দেশটির কেন্দ্রীয় আধা সামরিক বাহিনীর (সিআরপিএফ) ৪০ সদস্যের প্রাণহানির পর থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কাশ্মিরের নাগরিকদের হেনস্থা, তাদের উপর অত্যাচারের নানা ঘটনা সামনে এসেছে।

সোমবার পুলওয়ামার পিংলিশ গ্রামে অভিযান চালিয়ে তিন জঙ্গিকে হত্যা করে ভারতীয় সেনা। তাদের মধ্যে নিহত কামরান ছিলেন পুলওয়ামায় আত্মঘাতী হামলার মাস্টারমাইন্ড। এ ছাড়া ছিল হিলাল আহমেদ নামে এক স্থানীয় বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ এবং রশিদ ওরফে গাজি ওরফে লুকমান। হামলায় এক স্থানীয় বাসিন্দার মৃত্যু হয়। তিনি ওই জঙ্গিদের আশ্রয় দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ।

অন্য দিকে, ভারতীয় সেনার মেজর বিভূতিশঙ্কর ধৌনদয়াল, সিপাহি হরি সিংহ, অজয় কুমার, হাবিলদার শেও রাম, এবং জম্মু কাশ্মিরের হেড কনস্টেবল আবদুল রশিদ কলসও এনকাউন্টারে গিয়ে জঙ্গিদের গুলিতে নিহত হন।

 

এই ঘটনার পরই মঙ্গলবার তিন বাহিনীর তরফে সাংবাদিক বৈঠক করা হয়। সেনার পক্ষে ঢিলোঁ ছাড়াও ছিলেন সিআরপিএফ-এর ডিজি জুলফিকার হাসান এবং কাশ্মির পুলিশের আইজি এপ পি পানি। এই সাংবাদিক বৈঠকেই সাধারণ কাশ্মিরিদের বিরুদ্ধে এসব বার্তা দেন ঢিলোঁ। পুলওয়ামায় আত্মঘাতী হামলার শিকড় যে পাকিস্তানেই, এবং তাদের পৃষ্ঠপোষক যে পাক সেনা এবং পাক গুপ্তচর সংস্থা ইন্টার সার্ভিস ইন্টেলিজেন্স (আইএসআই) সে কথা এ দিন স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন ঢিলোঁ। কোনও অনুপ্রবেশকারী এ দেশে ঢুকলে সে বেঁচে ফিরতে পারবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন ঢিলোঁ। সূত্র: এনডিটিভি, আনন্দবাজার।

 

Leave A Reply

Your email address will not be published.