বিমান ছিনতাইকারীর ৩ বছরে ৪০ দেশ ভ্রমণ, রহস্য খুঁজছেন গোয়েন্দারা

৩ বছরে ৪০ দেশ ভ্রমণ- বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিমান ছিনতাইয়ের চেষ্টার সময় কমান্ডো অভিযানে নিহত পলাশ আহমেদ নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের মুদি দোকানি পিয়ার জাহান সরদারের ছেলে।

মাদ্রাসা থেকে মাত্র দাখিল পাস করা পলাশ আহমেদ ওরফে মাহাদী (বিমান ছিনতাইয়ের সময় নিজেকে মাহাদী হিসেবে পরিচয় দেন তিনি) গত তিন বছরে ৪০টি দেশ ভ্রমণ করেছেন। এর মধ্যে বেশি গেছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে। তার এই বার বার বিদেশ ভ্রমণের বিষয়টি খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
figure>

 

স্ত্রী চিত্রনায়িকা সিমলার সঙ্গে পলাশ আহমেদ। সোমবার সিমলা বলেছেন, চার মাস আগেই তাদের ছাড়াছাড়ি হয়েছে

ইমিগ্রেশন পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলছে, পলাশের পরিচয় উদ্ধার করতে গিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। আর তা হলো- গত তিন বছরে পলাশ ৪০টিরও বেশি দেশ ভ্রমণ করেছেন। শুধু গত বছরই তিনি দুবাই যান চার বার। আর প্রত্যেকবার দুই দিনের বেশি সেখানে থাকেননি।

ওই বছরই পলাশ মালয়েশিয়া ও ভারতেও তিন বার করে যাতায়াত করেন। সর্বশেষ গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর দুবাই গিয়ে মাত্র দুই দিন পর ২৮ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন ওই যুবক।
figure>

 

সূত্রগুলো আরো বলছে এর আগে গত বছরের ১১ মে, ২ জুন, ১৯ আগস্ট তিন দফা তিনি দুবাই যান।

সোমবার র্যা বের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান জানান, পলাশের আঙুলের ছাপ ও চোখের মণি পরীক্ষা করে আমাদের ডাটাবেজে থাকা এক অপরাধীর সঙ্গে মিল পাওয়া যায়। সেই অনুযায়ী নিহতের বিমানের টিকিট ও পাসপোর্টের তথ্যে সব মিল পাওয়া গেছে।

এর আগে রোববার ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দুবাইগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজ ছিনতাই চেষ্টার পর কমান্ডো অভিযানে নিহত হন পলাশ।

তার মৃত্যুর পর নানা বিষয় নিয়ে রহস্যে পড়ে গেছেন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। সেগুলো উদঘাটনের অংশ হিসেবেই তার পার্সপোর্টের বিষয়টি সামনে চলে আসে। আর পাসপোর্টের খবর জানতে গিয়েই বেরিয়ে আসে এত বেশি বার বিদেশ ভ্রমণের চাঞ্চল্যকর তথ্য।
figure>

 

সোমবার সংবাদ সম্মেলনে র্যা ব আরো জানায়, পলাশের আঙুলের ছাপ তাদের ডাটাবেজে থাকা এক অপরাধীর সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়েছে।

র্যা ব কর্মকর্তা মুফতি মাহমুদ খান জানান, উড়োজাহাজ ছিনতাইয়ের চেষ্টাকারী পলাশ ২০১২ সালে এক নারীকে অপহরণ করে ৮ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। তখন তাকে এক সহযোগীসহ আটক করে র্যা ব-১১।

একই সঙ্গে সেই নারীকেও উদ্ধার করা হয়। র্যা বের ডাটাবেজ অনুযায়ী ২০১২ সালে তিনি বিবাহিত ছিলেন। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা দাখিল পাস। বিষয়টি আমরা তদন্ত করে দেখছি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পলাশ আহমেদের পাসপোর্ট নম্বর বিএন ০৯৫০৮৮২। এই পাসপোর্টের সূত্র ধরেই তার বিদেশ যাতায়াতের তথ্য বেরিয়ে আসে।
figure>

 

গত তিন বছরে তিনি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত, মালয়েশিয়া, নেপাল, ভুটান, সিঙ্গাপুরসহ অন্তত ৪০টি দেশে গিয়েছেন। তবে পলাশ সবচেয়ে বেশি ভ্রমণ করেছেন দুবাই। কেন তিনি বার বার দুবাই যেতেন তা এখন খতিয়ে দেখছে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা।figure>

 

figure>

 

Leave A Reply

Your email address will not be published.